সোমবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২১

‘মিশন এক্সট্রিম’ দেখার পর...

 


নতুন টিভিউতে স্বাগত। টিভিউ কী জিনিস তা তো আপনাদের জানাই আছে, তবুও নতুন পাঠকের উদ্দেশ্যে আরো একবার ভাঙা রেকর্ড বাজাই। রিভিউ দেয়ার যোগ্য লোক নই আমি, কোন বই পড়ার পর অথবা কোন ম্যুভি দেখার পর যা লিখি সেইটা বড়জোর টিভিউ হিইতে পারে, হয়। ওই যে আমরা কথা প্রসঙ্গে বলি না, চা-টা, বিস্কুট টিস্কুস; টিভিউ হইলো টিস্কুটের মতো কিছু একটা।

নিশ্চয় টিস্কুট-টিভিউ জাতীয় প্যাচালে আপনাদের আগ্রহ নাই, তাই সরাসরি কামের কথায় আসি। নইলে এখনই যদি ব্লগ ছেড়ে চলে যান, আমার দীর্ঘশ্বাস আরো দীর্ঘ হইতে পারে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পুলিশ এ্যাকশন থ্রিলার ‘মিশন এক্সট্রিম’ রিলিজ হইলো। কোভিড পরিস্থিতি না থাকলে দুই হাজার বিষেই আমার এই অমৃত খাইতে পারতাম হয়তো। এর আগে এইদেশে এই জনরার ম্যুভি ছিলো ‘ঢাকা এ্যাটাক’। দুইটা যেহেতু দুই ম্যুভি তাই ঢাকা এ্যাটাকের সাথে আমি কোন তুলনায় যাবো না। ‘মিশন এক্সট্রিম’ এক্সট্রিম লেভলের ভালো হইছে তা বলছি না, তবে আমি যদি এক্সট্রিম লেভেলের প্রত্যাশা না নিয়ে ম্যুভিটি দেখতে বসেন তাহলে আপনার পয়সা উসুল হবে একথা নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি। গোলকায়নের এই যুগে নেটফ্লিক্স-এর মুভ্যি-ট্যুভি দেইখা ‘মিশন এক্সট্রিম’ তুলনায় না যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আমাদের সামর্থ্য, বাস্তবতা মেনেই ‘মিশন এক্সট্রিম’ দেখার মিশন শুরু করলে ভালো করবেন।

একটা দেশি জঙ্গিবাদী সংগঠন আর্ন্তজাতিক জঙ্গি সংগঠনের নজরে আসার জন্য ব্যপক নাশকতার ছক কষে আর সেই ষড়ষন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিতে মাঠে নামে বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এইটা হইলো ম্যুভির মূল থিম। দারুণ সমসাময়িক প্রেক্ষাপটের এই গল্প নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমার সেলাম। জঙ্গিবাদ বিষয়ে বর্তমান বাংলাদেশের চিত্র আমরা সবাই কম বেশি জানি। আমরা এও জানি কী করে সাধারণ তরুণ-যুবাদের মগজধোলেইয়ের মাধ্যমে কথিত জিহাদের জালে জড়িয়ে নেয় জঙ্গিবাদী সংগঠনগুলো। এই সিনেমা মগজধোলাইয়ের শিকার তরুণদের একটু হলেও ভাবাবে, নতুন করে যারা মগজধোলাইয়ের শিকার হতে যাচ্ছে হয়তো তাদেরও রক্ষাকবজ হতে পারে ‘মিশন এক্সট্রিম’। তাই আমার একটা বিনীত অনুরোধ আপনি যদি ‘মিশন এক্সট্রিম’ ম্যুভিটি দেখার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, অনুগ্রহ করে আপনার কিশোর-তরুণ ছেলে/মেয়ে আত্মীয়, বন্ধুদের সাথে করে নিয়ে যাবেন।

যে ছেলেটা মাঠে ফুটবল খেলছে, যে ছেলেটা গীটার বাজাচ্ছে আজ, কাল সে প্রিয় রুপালী গীটার নিজ হাতে ভেঙে হয়ে যাচ্ছে আত্মঘাতি জঙ্গি। এই ম্যুভিতে আরো দেখানো হয়েছে জিহাদের ডাকে বেরিয়ে যাওয়া তরুণদের পরিবারের হাহাকার। এবং সেইসব বিপথগামী তুরুণের নীরব চোখের জল এবং করুণ পরিণতি।

‘মিশন এক্সট্রিম’ ম্যুভির একটা দৃশ্য অনেকটা এমন। জঙ্গিদের একটা সেফ হা্উস বা আস্তানা পুলিশ ঘেরাও করে ফেলেছে। এমন সময় জঙ্গি সংগঠনের প্রধানকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে আসে তার নেপথ্য অভিভাবক বা আন্তর্জাতিক মিত্রের দুজন সদস্য। সে সময় আস্তানায় ছিলো স্থানীয় জঙ্গি দলনেতা (তাসকিন) ও তার দুই তরুণ সহযোগী। যাদের সে মগজধোলাই করে দলে ভিঁড়িয়েছে। উদ্ধারকারী মুশোখপরা জঙ্গি দুজন দলনেতা জঙ্গিকে বলে ‘শুধু আপনি আমাদের সাথে আসবে, ওরা পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধ করুক’। এরপর জঙ্গি দলনেতা সহযোগী দুই তরুণের সাথে আলিঙ্গন করে বলে, ‘তোমাদের সাথে জান্নাতে দেখা হবে। খোদা হাফেজ।’ জঙ্গি দলনেতা চলে যাবার কয়েক মুহূর্ত পরই পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট আস্তানায় হামলা চালায়। নিঃসঙ্গ, হতবুদ্ধি, হতভাগ্য দুই তরুণও পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। একসময় পুলিশের গুলি লাগে ওদের গায়। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে একটি তরুণ পুলিশ (আরেফিন শুভ) উদ্দেশ্য করে বলে, ‘স্যার, আমাকে বাঁচান’। এমন ছোট ছোট অসংখ্য ম্যাসেজ ছড়িয়ে আছে ‘মিশন এক্সট্রিম’ ম্যুভিতে যা নিশ্চিতভাবে আপনাকে ভাবাবে।

মূল চরিত্র আরেফিন শুভ ও তাসকিন রহমান। দুর্দান্ত করেছেন। বিশেষ চরিত্রে শতাব্দী ওয়াদুদ স্রেফ ফাটিয়ে দিয়েছেন। তারকা সমৃদ্ধ ম্যুভি এই ‘মিশন এক্সট্রিম’। রাইসুল ইসলাম আসাদ থেকে শুরু করে ফজলুর রহমান বাবু কে নেই? রাশেদ মামুন অপুর অভিনয় আগুন। বিশেষ করে পুলিশের হাতে ধরা পড়বার পর তার সেই আক্রোশ, সেই কিকটা অনেকদিন চোখে লেগে থাকবে। নাবিলা, নবাগত ঐশী, মনোজ প্রামাণিক, ইরেশ যাকেরসহ প্রত্যেকে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছেন। পাশাপাশি চিত্রনাট্য, সিনেমাটোগ্রাফি বেশ ভালো ছিলো। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক চলনসই, সম্পাদনা, কালার গ্রেডিং আরো ভালো হতে পারতো। দুইটা গান আছে, অবশ্য দুইটা না বলে দেড়টা বললে বেশি মানানসই হয়। আহামরি কিছু না হলেও খারাপ না। একটু মশলা তো দিতেই হয়, কী বলেন?

‘মিশন এক্সট্রিম’ পার্ট ২ আসবে হয়তো। অপেক্ষায় রইলাম। সমালোচনার ছুরি চালানোর মতো অনেক ফাঁকফোকর আছে। সঙ্গত কারণেই সে পথে হাঁটছি না। দুর্ভিক্ষ্যের মধ্যে খাবার পাওয়াটাই আসল কথা, কী রান্না হইছে সেইটা কোন বিষয়ই না...

 

 


 

 

 

 

 

লেবেলসমূহ:

সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১

রেহানা মরিয়ম নূর দেখার পর...

 


ঘোলা ক্যান ভাই? ম্যুভি শুরু হইছে মিনিট পাঁচেক হইলো, এই সময়টা খুব মনযোগ ধইরা রাখার চেস্টা করি আমি। বেচারা লেট লতিফ দর্শক দুইটা ভুল করলেন পরপর। সাথে আরেকটা ভুলেরও উপলক্ষ্য তিনি। তার কারণে হলের স্টাফ টর্চ জ্বালাইতে বাধ্য হইছে, একেতে অসছে দেরি কইরা তার উপর সুবেদারের মতোন গলায় কয়, ঘোলা ক্যান ভাই। হলের স্টাফ ইশারায় চেয়ার দেখিয়ে দিতে দিতে বললেন, ‘এইডা এইরকমই’। ওই পাশ থেকে আরেক ভদ্র অথবা অভদ্রলোক মোবাইলে ব্রাউজ করতাছে। মাথার পিছনে একজোড়া কইতর দর্শক ফুসুর-ফুসুর করে। এই সব কিছুকে আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে আবারও মগজ বন্ধক রাখলাম পর্দায়। আপনার কাছেও হয়তো ম্যুভিটি ঘোলা লাগতে পারে, নীল রং-এর বাড়াবাড়ি চোখে লাগতে পারে, ভিজ্যুয়াল চোখে পড়ার মতো নড়াচড়া বিরক্ত করতে পারে, এক পলকের জন্য হয়তো ভ্রম হতে পারে, কোন এ্যামেচার টিমের কাজ নয়তো? না। তা নয়, বরং উল্টো এইগুলোই এই ছবির প্রাণভোমরা বললে বাড়িয়ে বলা হবে না হয়তো।

পাঠক, বুঝতেই পারছেন; বলছি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের কথা। শিরোনাম রিভিউ লেখা আছে দেখা বিভ্রান্ত হবেন না। এইটা রিভিউটা না। চলচ্চিত্রের রিভিউ দেয়া এত্তো সোজা না। আমার মতো মূর্খের জন্যতো না-ই। তারউপর মাত্র একবারের জন্য একটা ম্যুভি দেখে কথা বলাটাই দুঃসাহসিক কাজ। তাই আমার এ লেখাটি বড়জোর টিভিউ হতে পারে। ওই যে আমরা বলি না, চা-টা বিস্কিট-টিস্কিট; ওই রকমই জিনিস এই টিভিউ।

এই ম্যুভির সবচে শক্তিশালী জায়গা হলো চিত্রনাট্য এবং অভিনয়। চিত্রনাট্য সাজাইতে রেহানা মরিয়ম নূর টিমকে কতো রাত বসে বসে কাটাইতে হইছে কে জানে। অভিনয়ে মূল চরিত্র বাঁধনকে নিয়াতো আর নতুন করে বলবার কিছু নাই, তারপরও যেহেতু লিখতাছি একেবারে কিছু না কইলেও খ্রাপ দেহায়। এক কথায়, বাঁধন এই ম্যুভিতে বাঁধন ছিলেন না, তিঁনি রেহানা হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। চরিত্রে যতোটা গভীরে ডুব দিয়ে শালুক তুলে আনা যায় তিঁনি ডুবেছিলেন ততোটাই। পার্শ্ব চরিত্রে অ্যানি এবং ইমো তুরুক। এই দুইটি চরিত্রে যারা অভিনয় করেছেন ওঁদের নাম আমি জানি না, ইচ্ছা করলে নেট ঘাইটা জাইনা নিতে পারি কিন্তু ইচ্ছা করতাছে না। অ্যানিকে অতি সম্ভাবনাময় মনে হইছে। আমার মনে হয় ওঁর ভবিষ্যৎ ফকফকা। আর ছোট্ট ইমুর কথা কী বলবো, শতভাগ ভালোবাসা রইলো। একদম শেষে ইমুতো আমার দমবন্ধ করে মারার প্লাণ করতাছিলো। আরেফিন চরিত্রটিও মুগ্ধ হয়ে দেখেছি। ফাটাফাটি। প্রিন্সিপাল, মিমি, রেহনার ভাইসহ প্রত্যেকটা ছোট-বড় চরিত্র যার যার জায়গা থেকে শতভাগ উজাড় করে দিয়েছেন। ম্যুভিটা দেখেই বোঝা যায় রেহানা মরিয়ম নূরের টিম বন্ডিংটা ফেবিকলের চেয়েও মজবুত।


আহমেদ ছফার ‘পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ’ উপন্যাস পড়ার পর আমি নার্সারি থেকে অনেক গান কিনে আনছিলাম। ওই রকম বৃক্ষপ্রেম আমার নাই যে, বহুতল বস্তির কর্ণার ফ্লাটের জন্য গাদা গাদা গাছ নিয়ে আসবো। আসলে ছফা আমাকে বাধ্য করেছিলেন। এইখানেই লেখক শিল্পী নির্মাতার যাদু। সাধে কী লোকে ওঁদের নামের আগে যাদুকর বলে থাকে। সাদের এই ম্যুভির যাদুর রেশও অনেক দিন থাকতে পারে আপনার মগজের ঘুলঘুলিতে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক শুনে প্রথমেই আমার মগজে আসে পিঙ্ক ফ্লয়েডের গানের সংগীতায়োজন। টুকরো টুকরো বিমূর্ত শব্দ আচ্ছন্ন করে রেখেছি পুরো একঘন্টা চুয়াল্লিশ মিনিট প্রায়। পুরো ম্যুভিতেই ভাববার মতো বিস্তর রসদ আলতো করে পরম যত্নের সাথে পরিচালক তুলে দিয়েছেন আমার হাতে, আমাদের হাতে। কোন নিদৃষ্ট উপসংহার নাই, গল্প বলার ঢং গদ্যের মতো, দিনশেষে একটা দীর্ঘ কবিতা। পাঠকের মতোন ভেবে নিতে হবে দর্শককেই।

‘কেউ দেখেনি মানে কী ঘটনাটি ঘটেনি?’ এইরকম বেশ কিছু সংলাপ পকেটে নিয়ে বাড়ি ফিরেছি। নারীবাদ, ধর্ম ইত্যাদি ছিলো নুনের মতো, প্রতিবাদ ছিলো, লড়াই ছিলো, ছিলো রুঢ় বাস্তবতা। দিনশেষে একজন বাঙালী, বাংলাদেশী দর্শক হিসেবে আমি গর্বিত। সিনেমার মশালটা জ্বালিয়ে রাখার জন্য ধন্যবাদ ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ টিমকে। মাথার নাগাল না পেলেও বিশ্ব চলচ্চিত্রের কান ধরে টান দেয়া ছোটখাট বিষয় না, নিশ্চয় পরেরবার মাথার দেখাটাও পেয়ে যাবেন সাদ...



 

লেবেলসমূহ:

বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

‘Revolt-দ্রোহ’ চলচ্চিত্র, নারী ও তার যাপিত জীবনের বাকস্বাধীনতাহীন বাস্তবতার গল্প

 

শিরোনামটি আমি লিখি নাই। এইটা রিভোল্ট পেজের ইন্ট্রো থেকে নিছি। ছবিটা আট মিনিটের। আট মিনেটের আগে মাত্র লিখছি না। কারণ বুঝতে পারবেন যদি কখনো আট মিনিট নিরবতা পালন করেন। কিন্তু আট আটটা মিনিট আট মুহূর্তের মতোই কেটে গেলো। তারমানে বুঝতেই পারছেন নির্মাতার দক্ষতার লেভেলটা কোন পর্যায়ের উঁচু। ‘দ্রোহ’ ম্যুভিটা ইতোমধ্যে প্রায় ডজনখানে দেশ-দূরদেশের নামকরা চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত, প্রশংসিত ও পুরষ্কৃত হয়েছে। সেজন্য অভিনন্দন জানাই পরিচালক অপরাজিতা সংগীতাকে। শুধু কি একা সংগীতাকেই অভিনন্দন জানাচ্ছি? মোটেই না, একজন খেলোয়ার কখনোই ভালো কিছু করতে পারে না, যদি না টিমের বাকি খেলোয়ার যথাযথ সাপোর্ট দেয়। সিনেমার ক্ষেত্রে এই কথা হাজার গুণ বেশি সত্য। কারণ কখনো কখনো কোন কোন খেলোয়াড় একাই ম্যাচ বাচিয়ে দেয় কিন্তু সিনেমাতে একা ভালো কিছু করা সত্যি অসম্ভব। শাহদাত রাসেলের গল্প, প্রীতি, মিঠামামুনসহ বাকী সব আর্টিস্ট, সিনেমাটোগ্রাফি, শব্দ, সংগীতায়োজন যারা করেছেন সকলকে অভিনন্দন।

সংগীতা একটা ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা প্রতিদিন যে ঘটনাগুলো ফেস করি সেগুলোকেই আমি সিনেমায় তুলে ধরতে চেয়েছি...।’ আসলে শিল্প-সাহিত্যের কাজ কিন্তু এই। আমাদের সময়কে, আমাদের চারপাশের নিত্য পরিচিত দৃশ্যগুলোকে আলোয় আঁকা। ইমতিয়াজ মাহমুদ ভাইয়ের সাথে আমি একমত, শত শত মোটা মোটা পুস্তক পরার চেয়ে এই সব চলচ্চিত্র, গান, কার্টুন বিবিধ শিল্পকলা বেশি কার্যকর।

নারী কবির কাছে নগ্ন কবিতার সাবজেক্ট, যুবকের কাছে মাল, পুরোহিতের কাছে নরকে প্রবেশের দ্বার, হুজুরের কাছে শষ্যক্ষেত্র। এক কথায় সমাজের হাজার মতবাদ, শ্রেণী, পেশা থাকলেও, প্রত্যেকের আলাদা আলাদা দর্শন, কর্ম থাকলেও একটা ক্ষেত্রে সবাই এক ছাতার তলায়, আর সেটা হলো নারী ভোগ্যবস্তু। ফেসবুকে কবে যেনো একটা লেখা পড়েছিলাম, হিন্দু গো-মাংস, মুসলমানে শুকরের মাংস হারাম কিন্তু নারী মাংস উভয়ের কাছেই আরাম। এইসব শেয়াল-শকুনের বৃত্ত ভেঙে ফেলার বার্তা সংগীতা দিয়ে গেলো, নারী অপরাজিতা এই বার্তা অপরাজিতা দিয়ে গেলো তার ‘দ্রোহ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এইবার আমাদের ওঁর চলচ্চিত্র থেকে বোধটুকু নেয়ার পালা। আমরা যদি এই বৃত্ত ভাঙতে ঐক্যবদ্ধ হই, হাতে হাত রাখি, তাহলেই এই চলচ্চিত্র তার সবচে বড় পুরুষ্কারটুকু পাবে। আমরা কি সেই পুরুষ্কার সংগীতার হাতে তুলে দিতে পারবো না?

অফটপিক: আরো এক প্লেট ফুচকা পাওনা রইলাম সংগীতা...



লেবেলসমূহ: