‘মিশন এক্সট্রিম’ দেখার পর...
নতুন
টিভিউতে স্বাগত। টিভিউ কী জিনিস তা তো আপনাদের জানাই আছে, তবুও নতুন পাঠকের উদ্দেশ্যে
আরো একবার ভাঙা রেকর্ড বাজাই। রিভিউ দেয়ার যোগ্য লোক নই আমি, কোন বই পড়ার পর অথবা
কোন ম্যুভি দেখার পর যা লিখি সেইটা বড়জোর টিভিউ হিইতে পারে, হয়। ওই যে আমরা কথা
প্রসঙ্গে বলি না, চা-টা, বিস্কুট টিস্কুস; টিভিউ হইলো টিস্কুটের মতো কিছু একটা।
নিশ্চয় টিস্কুট-টিভিউ জাতীয় প্যাচালে আপনাদের আগ্রহ নাই, তাই সরাসরি কামের কথায় আসি। নইলে এখনই যদি ব্লগ ছেড়ে চলে যান, আমার দীর্ঘশ্বাস আরো দীর্ঘ হইতে পারে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পুলিশ এ্যাকশন থ্রিলার ‘মিশন এক্সট্রিম’ রিলিজ হইলো। কোভিড পরিস্থিতি না থাকলে দুই হাজার বিষেই আমার এই অমৃত খাইতে পারতাম হয়তো। এর আগে এইদেশে এই জনরার ম্যুভি ছিলো ‘ঢাকা এ্যাটাক’। দুইটা যেহেতু দুই ম্যুভি তাই ঢাকা এ্যাটাকের সাথে আমি কোন তুলনায় যাবো না। ‘মিশন এক্সট্রিম’ এক্সট্রিম লেভলের ভালো হইছে তা বলছি না, তবে আমি যদি এক্সট্রিম লেভেলের প্রত্যাশা না নিয়ে ম্যুভিটি দেখতে বসেন তাহলে আপনার পয়সা উসুল হবে একথা নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি। গোলকায়নের এই যুগে নেটফ্লিক্স-এর মুভ্যি-ট্যুভি দেইখা ‘মিশন এক্সট্রিম’ তুলনায় না যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আমাদের সামর্থ্য, বাস্তবতা মেনেই ‘মিশন এক্সট্রিম’ দেখার মিশন শুরু করলে ভালো করবেন।
একটা দেশি জঙ্গিবাদী সংগঠন আর্ন্তজাতিক জঙ্গি সংগঠনের নজরে আসার জন্য ব্যপক নাশকতার ছক কষে আর সেই ষড়ষন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিতে মাঠে নামে বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এইটা হইলো ম্যুভির মূল থিম। দারুণ সমসাময়িক প্রেক্ষাপটের এই গল্প নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমার সেলাম। জঙ্গিবাদ বিষয়ে বর্তমান বাংলাদেশের চিত্র আমরা সবাই কম বেশি জানি। আমরা এও জানি কী করে সাধারণ তরুণ-যুবাদের মগজধোলেইয়ের মাধ্যমে কথিত জিহাদের জালে জড়িয়ে নেয় জঙ্গিবাদী সংগঠনগুলো। এই সিনেমা মগজধোলাইয়ের শিকার তরুণদের একটু হলেও ভাবাবে, নতুন করে যারা মগজধোলাইয়ের শিকার হতে যাচ্ছে হয়তো তাদেরও রক্ষাকবজ হতে পারে ‘মিশন এক্সট্রিম’। তাই আমার একটা বিনীত অনুরোধ আপনি যদি ‘মিশন এক্সট্রিম’ ম্যুভিটি দেখার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, অনুগ্রহ করে আপনার কিশোর-তরুণ ছেলে/মেয়ে আত্মীয়, বন্ধুদের সাথে করে নিয়ে যাবেন।
যে ছেলেটা মাঠে ফুটবল খেলছে, যে ছেলেটা গীটার বাজাচ্ছে আজ, কাল সে প্রিয় রুপালী গীটার নিজ হাতে ভেঙে হয়ে যাচ্ছে আত্মঘাতি জঙ্গি। এই ম্যুভিতে আরো দেখানো হয়েছে জিহাদের ডাকে বেরিয়ে যাওয়া তরুণদের পরিবারের হাহাকার। এবং সেইসব বিপথগামী তুরুণের নীরব চোখের জল এবং করুণ পরিণতি।
‘মিশন
এক্সট্রিম’ ম্যুভির একটা দৃশ্য অনেকটা এমন। জঙ্গিদের একটা সেফ হা্উস বা আস্তানা
পুলিশ ঘেরাও করে ফেলেছে। এমন সময় জঙ্গি সংগঠনের প্রধানকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে আসে
তার নেপথ্য অভিভাবক বা আন্তর্জাতিক মিত্রের দুজন সদস্য। সে সময় আস্তানায় ছিলো
স্থানীয় জঙ্গি দলনেতা (তাসকিন) ও তার দুই তরুণ সহযোগী। যাদের সে মগজধোলাই করে দলে
ভিঁড়িয়েছে। উদ্ধারকারী মুশোখপরা জঙ্গি দুজন দলনেতা জঙ্গিকে বলে ‘শুধু আপনি আমাদের
সাথে আসবে, ওরা পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধ করুক’। এরপর জঙ্গি দলনেতা সহযোগী দুই
তরুণের সাথে আলিঙ্গন করে বলে, ‘তোমাদের সাথে জান্নাতে দেখা হবে। খোদা হাফেজ।’ জঙ্গি
দলনেতা চলে যাবার কয়েক মুহূর্ত পরই পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট আস্তানায়
হামলা চালায়। নিঃসঙ্গ, হতবুদ্ধি, হতভাগ্য দুই তরুণও পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। একসময়
পুলিশের গুলি লাগে ওদের গায়। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে একটি তরুণ পুলিশ (আরেফিন শুভ) উদ্দেশ্য
করে বলে, ‘স্যার, আমাকে বাঁচান’। এমন ছোট ছোট অসংখ্য ম্যাসেজ ছড়িয়ে আছে ‘মিশন এক্সট্রিম’
ম্যুভিতে যা নিশ্চিতভাবে আপনাকে ভাবাবে।
মূল চরিত্র আরেফিন শুভ ও তাসকিন রহমান। দুর্দান্ত করেছেন। বিশেষ চরিত্রে শতাব্দী ওয়াদুদ স্রেফ ফাটিয়ে দিয়েছেন। তারকা সমৃদ্ধ ম্যুভি এই ‘মিশন এক্সট্রিম’। রাইসুল ইসলাম আসাদ থেকে শুরু করে ফজলুর রহমান বাবু কে নেই? রাশেদ মামুন অপুর অভিনয় আগুন। বিশেষ করে পুলিশের হাতে ধরা পড়বার পর তার সেই আক্রোশ, সেই কিকটা অনেকদিন চোখে লেগে থাকবে। নাবিলা, নবাগত ঐশী, মনোজ প্রামাণিক, ইরেশ যাকেরসহ প্রত্যেকে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছেন। পাশাপাশি চিত্রনাট্য, সিনেমাটোগ্রাফি বেশ ভালো ছিলো। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক চলনসই, সম্পাদনা, কালার গ্রেডিং আরো ভালো হতে পারতো। দুইটা গান আছে, অবশ্য দুইটা না বলে দেড়টা বললে বেশি মানানসই হয়। আহামরি কিছু না হলেও খারাপ না। একটু মশলা তো দিতেই হয়, কী বলেন?
‘মিশন এক্সট্রিম’ পার্ট ২ আসবে হয়তো। অপেক্ষায় রইলাম। সমালোচনার ছুরি চালানোর মতো অনেক ফাঁকফোকর আছে। সঙ্গত কারণেই সে পথে হাঁটছি না। দুর্ভিক্ষ্যের মধ্যে খাবার পাওয়াটাই আসল কথা, কী রান্না হইছে সেইটা কোন বিষয়ই না...
লেবেলসমূহ: ফিল্ম রিভিউ