বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

‘Revolt-দ্রোহ’ চলচ্চিত্র, নারী ও তার যাপিত জীবনের বাকস্বাধীনতাহীন বাস্তবতার গল্প

 

শিরোনামটি আমি লিখি নাই। এইটা রিভোল্ট পেজের ইন্ট্রো থেকে নিছি। ছবিটা আট মিনিটের। আট মিনেটের আগে মাত্র লিখছি না। কারণ বুঝতে পারবেন যদি কখনো আট মিনিট নিরবতা পালন করেন। কিন্তু আট আটটা মিনিট আট মুহূর্তের মতোই কেটে গেলো। তারমানে বুঝতেই পারছেন নির্মাতার দক্ষতার লেভেলটা কোন পর্যায়ের উঁচু। ‘দ্রোহ’ ম্যুভিটা ইতোমধ্যে প্রায় ডজনখানে দেশ-দূরদেশের নামকরা চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত, প্রশংসিত ও পুরষ্কৃত হয়েছে। সেজন্য অভিনন্দন জানাই পরিচালক অপরাজিতা সংগীতাকে। শুধু কি একা সংগীতাকেই অভিনন্দন জানাচ্ছি? মোটেই না, একজন খেলোয়ার কখনোই ভালো কিছু করতে পারে না, যদি না টিমের বাকি খেলোয়ার যথাযথ সাপোর্ট দেয়। সিনেমার ক্ষেত্রে এই কথা হাজার গুণ বেশি সত্য। কারণ কখনো কখনো কোন কোন খেলোয়াড় একাই ম্যাচ বাচিয়ে দেয় কিন্তু সিনেমাতে একা ভালো কিছু করা সত্যি অসম্ভব। শাহদাত রাসেলের গল্প, প্রীতি, মিঠামামুনসহ বাকী সব আর্টিস্ট, সিনেমাটোগ্রাফি, শব্দ, সংগীতায়োজন যারা করেছেন সকলকে অভিনন্দন।

সংগীতা একটা ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা প্রতিদিন যে ঘটনাগুলো ফেস করি সেগুলোকেই আমি সিনেমায় তুলে ধরতে চেয়েছি...।’ আসলে শিল্প-সাহিত্যের কাজ কিন্তু এই। আমাদের সময়কে, আমাদের চারপাশের নিত্য পরিচিত দৃশ্যগুলোকে আলোয় আঁকা। ইমতিয়াজ মাহমুদ ভাইয়ের সাথে আমি একমত, শত শত মোটা মোটা পুস্তক পরার চেয়ে এই সব চলচ্চিত্র, গান, কার্টুন বিবিধ শিল্পকলা বেশি কার্যকর।

নারী কবির কাছে নগ্ন কবিতার সাবজেক্ট, যুবকের কাছে মাল, পুরোহিতের কাছে নরকে প্রবেশের দ্বার, হুজুরের কাছে শষ্যক্ষেত্র। এক কথায় সমাজের হাজার মতবাদ, শ্রেণী, পেশা থাকলেও, প্রত্যেকের আলাদা আলাদা দর্শন, কর্ম থাকলেও একটা ক্ষেত্রে সবাই এক ছাতার তলায়, আর সেটা হলো নারী ভোগ্যবস্তু। ফেসবুকে কবে যেনো একটা লেখা পড়েছিলাম, হিন্দু গো-মাংস, মুসলমানে শুকরের মাংস হারাম কিন্তু নারী মাংস উভয়ের কাছেই আরাম। এইসব শেয়াল-শকুনের বৃত্ত ভেঙে ফেলার বার্তা সংগীতা দিয়ে গেলো, নারী অপরাজিতা এই বার্তা অপরাজিতা দিয়ে গেলো তার ‘দ্রোহ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এইবার আমাদের ওঁর চলচ্চিত্র থেকে বোধটুকু নেয়ার পালা। আমরা যদি এই বৃত্ত ভাঙতে ঐক্যবদ্ধ হই, হাতে হাত রাখি, তাহলেই এই চলচ্চিত্র তার সবচে বড় পুরুষ্কারটুকু পাবে। আমরা কি সেই পুরুষ্কার সংগীতার হাতে তুলে দিতে পারবো না?

অফটপিক: আরো এক প্লেট ফুচকা পাওনা রইলাম সংগীতা...



লেবেলসমূহ: